আজকে হঠাৎ করেই ওয়ালেটে চোখ পড়ল। ক'দিন আগেও আমার কাজিন জিজ্ঞেস করেছিল ভাইয়া তুমি এই ছবির মানুষটাকে ওয়ালেটে রাখ কেন? বলেছিলাম মনে নেই কবে রেখেছিলাম।
- তাকে মিথ্যে বলেছিলাম ঐ দিন। কারণ সত্যিটা বলার ইচ্ছে বা সাহস কোনটাই নেই আমার। ভাবলাম বার বার একি কথা জিজ্ঞেস করে সবাই, তার থেকে জানিয়ে দেওয়াই ভাল হয় একবারে, একসাথে সাবাইকে।
হমম আমি তাহাকে আমার ওয়ালেটে রাখি সব সময়ই। এটা কিন্তু এই ক'দিনের জন্য রাখলাম তা না দীর্ঘ ১১ বছর ধরে। তার সাথে আমার সম্পর্ক হয় ২০১০ জানুয়ারি ১১ তারিখে। আমাদের কারুরই তখন মোবাইল ছিলনা, ছিলনা কোন যোগাযোগের বিশেষ মাধ্যম। দেখা বা কথা হতো বলতে একি স্কুলে লেখাপড়া। ছেলে মেয়ে আলাদা হওয়ায় আমাদের দেখা হত ঐ একটু চোখাচোখি আর ইশারা ইংগিত। প্রথম দেখা যখন হয়েছিল তার সাথে সামনে সামনি তখন ২০১১ ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে একটা মন্দিরের মধ্যে, সাথে তার ছোট ভাইও ছিল। আমাদের সম্পর্কটার মাঝে তার ভাইয়ের অবদান বেশি। কথা আদান
প্রদান করতাম তার ভাইয়ের মাধ্যমে। আপন ভাই হয়ে এমন সাহায্য করার মূল কারণ হল সে-ও আমার খুব পছন্দ করত মানুষ হিসেবে।
প্রদান করতাম তার ভাইয়ের মাধ্যমে। আপন ভাই হয়ে এমন সাহায্য করার মূল কারণ হল সে-ও আমার খুব পছন্দ করত মানুষ হিসেবে। প্রথম দিকে আমাদের দেখা হত বছরে ২/৩ বার আর এইভাবেই ৩ বছর পার করে ফেলি। কেবল চিঠি ছিল একমাত্র মাধ্যম। আমি আবার চিরকুট লিখতে পারতাম না তেমন লেখা সুন্দর না বলে। তার চিরকুটের শব্দগুলো এখনোও মনে আছে আমার -
যেমন... ♪
" সূর্য তখন অস্ত যেতে ঢের বাকি, তার রক্তিম আভা তখনো রাঙ্গিয়ে " রেখেছে আকাশটাকে। চারদিকে হিম বাতাসে হাড়ের ভিতরও কাঁপন ধরিয়ে দেয়। নিউক এবং প্লেরা মনের অজান্তেই দুজন... "।
দুইজন খুব পরিকল্পনা করেছিলাম পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে যে আমাদের ১১ টা ছেলে মেয়ে হবে ইত্যাদি। তার সাথে আমার ৭ বছরের প্রেম ছিল। ২০১৬ সালের এপ্রিলের ২৬ তারিখে আমাদের ব্রেকআপ হয় তাও কারণ হিসাবে দুইজনের পরিবারের কথা চিন্তা করেই, কারন একে অপরের পরিবারকে চিনত। আমরা দুইজন ভেবেছিলাম সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে হয়তো। তাই নিজেদের মধ্যে একটু দূরত্বটা বাড়ায় আর তাছাড়া আমি ঢাকাতে থাকাতে তার সাথে আমার দেখা হতো খুবই কম। সম্পর্কে কখনো দূরত্ব হলে ভালবাসা কমে যায় না হয়তো, কিন্তু মায়া কমে যায় এইটা আমি বুঝতে পারেনি তখন। সম্পর্কে দূরত্ব দিতে নেই তাতে কোন একটা পক্ষ পিছু হটতে পারে। আমি তার ছবিটা এমনি করে রেখে দিতে চায় আরও কয়েকটি যুগের পর যুগ। কোন অভিযোগ, অভিমান, অনুরাগ নেই তার প্রতি। শুনেছি বিয়ে হয়েছে আর একটা বেবি হয়েছিল কিন্তু মারা গিয়েছে তার বেবিটা। শুনে কষ্টের চেয়ে খারাপ লাগছে নিজের প্রতি,সব কিছু ঠিক থাকলে হয়তো আমি বেবিটার বাবা হতাম।
আমাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যায়নি, ভেংগে গিয়েছিল আমাদের কমিটমেন্ট আর বন্ধুত্বটা। সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলেও আমি একেবারে হুট করে নাই হয়ে যেতে পারেনি । নির্মানাধীন অবস্থায় মুহূর্তগুলোকে রূপ রস দেওয়ার জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া থাকে, সেসবকে তুচ্ছ করে চলে যেতে পারেনি। আমি প্রতারণা করতে চাইলেও সরাসরি প্রতারক হওয়াকে এড়িয়ে চলেছিলাম । ধিরে ধিরে আমি অনেক দূরে চলে যেতেও পেরেছি কিন্তু ঐ দূরে যাওয়াটা ছিল আমার ভুল। একসময় আমাকে যে দেবতা বানিয়ে উপাসনা করেছিল আমি ধিরে ধিরে তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক অভিনয় করতে হয়েছিল, কারণটা রহস্য থেকে গেল আজও। থাক, এটা না হয় অন্য দিন বলি।
আমি'তো একদিন উপাসনালয়টাই ভেঙে দিয়ে চলে যায়। তারপর প্রার্থনাহীন নিঃসঙ্গ এক জীবনের সাথে সময় খরচ করে পুনরায় ফিরে এসে দেখি ততক্ষণে তার জীবনে অন্য একজনের অবির্ভাব কিন্তু সেটা বৈধ ( তার স্বামী) । তার সাথে ব্রেকআপ হওয়ার পরে জীবনে অনেক প্রেম এসেছিল কিন্তু তারা কেউ আমার সীমাবদ্ধতার মাঝে ছিল না। হয়তো আমি তাদের কাছে সীমাবদ্ধতায় ছিলাম না।
শূন্যতা কেবল অসীম; যার কোন সীমাবদ্ধতা নাই।
মানুষ আসে, মানুষ চলে যায়! দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা এবং শূন্যতার আহাজারিও চিরদিন থাকেনা! শূন্যতার বয়স বেড়ে গেলে, সে শূন্যতা তার যৌবন হারিয়ে ফেলে! যে শূন্যতা যৌবন থেকে বার্ধক্যে পা রাখে,সে শূন্যতার গভীরতায় পলি মাটির প্রলেপ পরতে পরতে একসময় ভরাট হয়ে আসে! আমার বিপ্রসন্তানস্য কারনে আমি তাকে হারিয়ে ফেলছি। সমস্ত দোষারোপ পর্বের বিনিময় সম্পন্ন হলে, শেষ দেখার দিন; মানুষ মানুষকে নতুন করে চিনে, আমিও তাকে নতুন করে চিনেছি।
যার নির্দিষ্ট কোন আশ্রয় নেই; সে যেখানে মাথা রাখে, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে, ঘর না থাকলে, ঘরে ফেরার তাড়া থাকেনা,আর তারাহুরোও করিনা জীবনের খুঁজে।
ভালোবাসা ব্যপারটা আসলে উদারতা নয়; এটা একটা সীমাবদ্ধতা। একটা শেকল। একটা বন্ধন। এটাকে আগলে রাখতে হয় শক্ত করে।
এখন আর কেউ ইবাদতে ব্যস্ত থাকেনা আমার জন্য। আসলে আমি চেয়েছিলাম কেউ একজন আমাকে যেন অন্ধত্বের ন্যায় হাঁটু গেসে বসে থাকুক সামনে যুগের পর যুগ।
প্রেমিক প্রেমিকাদের পৃথক কোন শহর নেই, যে শহরেই পা রাখো সে তোমার জন্য তৈরি করবে সহজ পথ। যেখানেই দৃষ্টি দাও জ্বালিয়ে দেবে উৎসবের আলো যেখানেই রাখো হাতফোটাবে বিশুদ্ধ গোলাপ;কবি ও প্রেমিকের আছে গভীর এক সাদৃশ্যদু'জনই মানুষের চেয়ে কিছুটা মানব কবিকে অভিশাপ দাও সে তোমাকে দেবে আশীর্বাদ;প্রেমিককে দুঃখ দাও সে তোমায় ভালবাসা দেবে। আমি তাকে আঘাত হয়তো বেশি করে ফেলেছি আর তাই বেশি ভালবাসার পরিমাণ সেও নিতে পারেনি।
প্রতিটি মানুষই প্রবলভাবে ভালবাসবে কিন্তু সেটা দেহের মৃত্যুর পরে, মনের মৃত্যু অজান্তেই থেকে যায় আমাদের তৈরি করা নিয়মে।। আমিও ঠিক সেটাই করে গিয়েছি কিন্তু সব কিছুর মাঝেও
১১ টি বছর পাড় করে ফেলেছি তার এই ছবিখানা নিয়ে, বুঝতেই পারিনি। হয়তো মুছে যাবে একদিন এই ছবিখানা রংধনু কিন্তু ভালোবাসা রয়ে যাবে হৃদযয়ের ক্ষত বিক্ষতে ।।
-আমার পৃ থি বী,

No comments:
Post a Comment